স্বদেশবিচিত্রা আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
একইসঙ্গে তিনি তার সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন ‘ধরে নেন’ যে, তিনি ব্যালটে রয়েছেন। ডালাস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
বুধবার ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন বিষয়ক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকানরা জিতলে আপনারাও আমাদের সঙ্গে জিতবেন এবং ৫ হাজার ডলার পাবেন। এটিকে ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ বলা হবে।
তবে এই অর্থ কোথা থেকে আসবে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। তাত্ত্বিকভাবে এই অর্থ প্রদানের মোট ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে।
এ বিষয়ে তিনি শুধু বলেন, ‘আমাদের দেশ প্রচুর অর্থ আয় করছে।’
জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে, এমন প্রচেষ্টায় নিজের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আপনাদের বলছি, ধরে নিন আমি ব্যালটে আছি।’
তিনি আরো বলেন, আমি ব্যালটে আছি, আমি ব্যালটে আছি আর মাত্র একবার।
জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার ৩০ শতাংশের ঘরে রয়েছে। উচ্চমূল্য ও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।
ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বরে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে ২৩০-২০৫ আসনে জয় পেতে পারে ও সিনেটে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ৫১-৪৯ হতে পারে।
ট্রাম্প অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধের পক্ষে জোরালো সাফাই গেয়েছেন। তিনি যুদ্ধে বিজয়ের পূর্বাভাস দেওয়ার পাশাপাশি এর সঙ্গে সরাসরি তেলের দাম কমার বিষয়টি যুক্ত করেন। একইসঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নাম নিজের নামে পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দেন।
ট্রাম্প বলেন, খাদ্যের দাম ও প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম দ্রুত কমছে আর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আমরা জয়ী হলেই তেলের দাম কমে যাবে। যুদ্ধটি এখন চলছে।
সম্মেলনে অন্য রিপাবলিকানদের মতো ট্রাম্পও যুক্তরাষ্ট্রে কমিউনিজমের কথিত ঢেউয়ের হুমকি নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, তারা জিতলে এটি একটি কমিউনিস্ট দেশে পরিণত হবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের ভোটই সিদ্ধান্ত নেবে, আমাদের দেশ আগামী ২৫০ বছরের শুরুতে হোঁচট খাবে, নাকি সামনে এগিয়ে যাবে এবং আর কখনো পেছনে ফিরে তাকাবে না।’
আজ বৃহস্পতিবার সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে আবারও বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। এর আগে মূল বক্তব্য দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
মন্ত্রিসভার সদস্য, কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরাও সম্মেলনের কর্মসূচিতে রয়েছেন।
স্বদেশবিচিত্রা/এআর







