, ,

আমিরাতে ভিসা জটিলতায় দিশেহারা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা: দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি

নিউজটি শেয়ার করুন

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (বিশেষ করে আবুধাবিতে) কর্মরত লাখো বাংলাদেশী প্রবাসী কর্মী বর্তমানে তীব্র ভিসা জটিলতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এসব রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের বড় একটি অংশ ছুটিতে দেশে এসে নতুন করে ভয়াবহ আইনি ও আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন।

স্বয়ংক্রিয় ভিসা বাতিল ও অজানা আতঙ্ক:

ছুটিতে দেশে আসা বহু প্রবাসীর ভিসা কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানো ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটোমেটিক) বাতিল হয়ে যাচ্ছে। কেন ভিসা বাতিল করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা বা তথ্য না পাওয়ায় প্রবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভয়ে বর্তমানে আমিরাতে কর্মরত হাজারও প্রবাসী কর্মী জরুরি প্রয়োজনেও দেশে আসতে সাহস পাচ্ছেন না।

দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য ও চড়া মাশুল:
এই মানবিক সঙ্কটকে পুঁজি করে একশ্রেণীর দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট রমরমা বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। ভিসা নবায়ন বা জটিলতা নিরসনের নামে সরকার-নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে কয়েক গুণ অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নিরুপায় ও অসহায় হয়ে প্রবাসীরা জায়গা-জমি বা ভিটেমাটি বিক্রি করে দালালদের হাতে বাড়তি টাকা তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিতে লাখো পরিবার:
ব্যাংক ঋণ কিংবা জমি-জমা বিক্রি করে প্রবাসে পাড়ি জমানো এসব কর্মীদের ভিসা বাতিল হওয়ায় পুরো পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। দ্রুুুত সমাধান না হলে বিশাল সংখ্যক প্রবাসী খালি হাতে দেশে ফিরতে বাধ্য হবেন, যা বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রবাহে মারাত্মক আঘাত হানবে।

সময়ের দাবি: কূটনৈতিক সমাধান:
ভুক্তভোগী প্রবাসীরা বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি এখন সময়ের দাবি যে, আবুধাবি ও আরব আমিরাত সরকারের সাথে দ্বি-পাক্ষিক পররাষ্ট্রনীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও নিবিড় করে উচ্চপর্যায়ে ফলপ্রসূ আলোচনা চালোনো হোক। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই জটিলতার দ্রুত ও স্থায়ী নিরসন করে লাখো রেমিট্যান্স যোদ্ধার কর্মসংস্থান রক্ষা করার জন্য সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।