, ,

অসুস্থ ও অসহায় সৈয়দ মিয়ার শেষ আশ্রয়টুকুও কি জুটবে না? দুই মেয়ের আকুল আবেদন, সহযোগিতায় এগিয়ে আসুন

নিউজটি শেয়ার করুন

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৫ নং লামচর ইউনিয়নের দক্ষিণ দাসপাড়া নোয়াবাড়ি এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা সৈয়দ মিয়া।

তাঁর পিতা মরহুম জিতু মিয়া মাওলানা এবং মাতা মরহুমা ছাবুদা খাতুন। বর্তমানে তিনি অত্যন্ত অসুস্থ, অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জীবনের শেষ সময়ে এসে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মতো যেন কেউ নেই।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সৈয়দ মিয়ার স্ত্রী হাসিনা বেগম দুই কন্যাসন্তান রেখে তাঁরা যখন মাত্র দুই-তিন বছর বয়সী, তখনই মৃত্যুবরণ করেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর সৈয়দ মিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর দীর্ঘদিন তিনি নিরুদ্দেশ ছিলেন।

সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের একটি বাড়ির রাস্তার পাশে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবি ও পরিচয়সহ প্রকাশ করা হয়। সেখানে তাঁর নাম-ঠিকানা উল্লেখ থাকায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে শনাক্ত করতে পারেন। খবর পেয়ে তাঁর দুই মেয়ের পরিবার কিশোরগঞ্জ থেকে তাঁকে উদ্ধার করে নিজ এলাকা রামগঞ্জের দক্ষিণ দাসপাড়া নোয়াবাড়িতে নিয়ে আসেন।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, নিজ এলাকায় ফিরে এসেও সৈয়দ মিয়া নিজের পৈতৃক ভিটায় আশ্রয় পানডনি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। অসুস্থ ও অসহায় অবস্থায় তাঁর পাশে আত্মীয়স্বজন কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের কেউ এগিয়ে আসেননি বলেও তাঁদের অভিযোগ। জীবনের শেষ সময়ে এসে নিজের বাড়িতেই তাঁর ঠাঁই না হওয়ায় পরিবারটি চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সৈয়দ মিয়ার কোনো ছেলে সন্তান নেই। তাঁর দুই মেয়ে হলেন বড় মেয়ে তাসলিমা বেগম এবং ছোট মেয়ে আকলিমা বেগম।

বড় মেয়ে তাসলিমা বেগম বলেন, “আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তিনি এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। কোনোমতে সংসার চালাই। বাবার চিকিৎসা ও খাবারের খরচ বহন করাও আমাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

আমার বাবা ওয়ারিশ সূত্রে পৈতৃক সম্পত্তির অংশীদার। কিন্তু সেই সম্পত্তিতে তাঁর থাকার মতো জায়গাটুকুও হয়নি। চাচা-জেঠাদের সঙ্গে কিংবা বাড়ির অন্য কারও সঙ্গে আমরা আইনি বিরোধে জড়াতে চাই না। তাঁরা আর্থিকভাবে সচ্ছল, কিন্তু আমরা অসহায়। আমাদের অর্থ-সম্পদ নেই। বাবার এই শেষ সময়ে আত্মীয়স্বজন কিংবা সরকারি কোনো সহযোগিতাও আমরা পাইনি। এমনকি ইউনিয়ন পর্যায় থেকেও কোনো ভাতার ব্যবস্থা হয়নি। কারও কাছে সাহায্য চাইতেও পারছি না।”

তাসলিমা বেগম আরও জানান, তাঁর বাবা সৈয়দ মিয়া পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট। তাঁর দাদা মরহুম জিতু মিয়া মাওলানা এবং দাদি মরহুমা ছাবুদা খাতুনের সন্তানরা হলেন—

ভাই:
১. ছায়েদুল মিয়া (লেদু)
২. সেকান্তর মিয়া
৩. আব্দুল ওহাব মিয়া
৪. খোয়াজ মিয়া
৫. সৈয়দ মিয়া

বোন:
১. মাহসুদা খাতুন
২. রজ্জবের নেশা
৩. ফাতেমা বেগম।

তাসলিমা বেগমের অভিযোগ, তাঁর বাবা ওয়ারিশ সূত্রে পৈতৃক সম্পত্তির অংশীদার হলেও নিজ বাড়িতে তাঁর থাকার মতো কোনো স্থান হয়নি। অসুস্থ বাবার চিকিৎসা, খাবার ও প্রয়োজনীয় দেখাশোনা করতে গিয়ে তাঁরা অসহায় হয়ে পড়েছেন।

এ অবস্থায় সমাজের বিত্তবান, মানবিক ও হৃদয়বান ব্যক্তিদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন এবং লক্ষ্মীপুরের মাননীয় সংসদ সদস্যের সুদৃষ্টি কামনা করছেন তাঁরা।

তাসলিমা বেগম বলেন, “আমরা কারও সঙ্গে বিরোধ চাই না। শুধু চাই, আমার বাবার জীবনের শেষ সময়ে যেন তিনি একটু চিকিৎসা, খাবার ও নিরাপদ আশ্রয় পান। আপনারা যদি আমাদের এই আকুল আবেদনটি দেখতে পান, তাহলে দয়া করে আমার বাবার পাশে দাঁড়াবেন। সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।”

অসহায় সৈয়দ মিয়ার পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।