, ,

অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ

নিউজটি শেয়ার করুন

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগপত্র স্পিকার বরাবর প্রেরণ

বিশেষ প্রতিবেদক: গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগপত্রে তারিখ রয়েছে ২৪ জুলাই ২০২৬।

বঙ্গভবন থেকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ নিয়ে তিনি নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে যে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়, তা নিরসনে তিনি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে সেই সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়।

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্রে তার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে তার হার্টে বাইপাস সার্জারিও হয়েছে। সম্প্রতি পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy নামে একটি রোগ ধরা পড়েছে। এই রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে পড়েন।

“রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসমর্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন” — পদত্যাগপত্রে এমনটাই উল্লেখ করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নির্বাচিত সরকার ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে সংসদে দায়িত্ব পালন করছে। তার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে এ সময়ে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।