, ,

১২,০০০ শিক্ষকের প্রশিক্ষণ উদ্যোগ নিবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

নিউজটি শেয়ার করুন

চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দেশব্যাপী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের
(জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যক্রমে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি)

১.বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার সমস্যা, সংকট ও প্রতিবন্ধকতা নিরসনকল্পে ১৯৯২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি সারাদেশের স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও প্রফেশনাল প্রোগ্রামসমূহ পরিচালনার পাশাপাশি কলেজ-ইনস্টিটিউটসমূহের অধিভুক্তি প্রদান ও নবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষা-কার্যক্রমে শৃঙ্খলাপ্রতিষ্ঠা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ অন-ক্যাম্পাসভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানটি। যার অধীনে দেশের প্রায় ২,২৮৪টি কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ৪০ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। দেশের মোট উচ্চশিক্ষার্থীর প্রায় ৭০ শতাংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় শিক্ষা গ্রহণ করে।। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি ০১ কোটিরও অধিক স্নাতক ডিগ্রিধারী দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পেশায় স্ব স্ব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে নতুন গ্রাজুয়েটদের কর্মদক্ষ ও প্রশিক্ষিত করে পাঠানো হলে দেশের রেমিট্যান্স আয় বহুগুণে বৃদ্ধি করা সম্ভব।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক কর্মবাজারের পরিবর্তিত চাহিদার প্রেক্ষাপটে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মসংস্থানমুখী করার লক্ষ্যে একটি ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগ বর্তমান সরকারের যুব উন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি বিস্তার এবং উচ্চশিক্ষা সংস্কার বিষয়ক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

উদ্দেশ্য

উচ্চশিক্ষাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।

২. শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষতায় দক্ষ করে তোলা।

৩. কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং ফ্রিল্যান্সিং সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

৪. শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগ জোরদার করা।

৫. ডিজিটাল ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ করা।

৬. আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে বাংলাদেশের মানবসম্পদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

শিক্ষক প্রশিক্ষণ

a2i, আইসিটি ডিভিশন ও UNICEF Bangladesh এর কারিগরি সহযোগিতায় ৮৯জন কোর ট্রেইনার এবং ৮৪০ জন মাস্টার ট্রেইনারসহ মোট ৯৩০ জনকে ICT বিষয়ে পাঠদানের জন্য প্রশিক্ষক তৈরি করা হয়েছে, যারা পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী ১২,০০০ শিক্ষককে ICT ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন। এছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তার অধিভুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করছে এবং শিক্ষকদের

Continuous Professional Development (CPD) কার্যক্রম চলমান।

দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠ্যক্রম

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুসরণ করে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার উপর বিশেষ গুরত্বারোপের অংশ হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে ICT, Artificial Intelligence, Data Analytics, Cyber Security, Programming, Entrepreneurship, Digital Communication, Leadership, Cognitive Empowerment, Productivity, Time Management, Financial Literacy এবং Moral Education -এর মতো আধুনিক বিষয়সমূহ পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করেছে। নতুন ICT কোর্সে Cyber Security, Outsourcing, Data Processing, Al, Free-lancing এবং Semiconductor সম্পর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কোর্স ধাপে ধাপে প্রায় ৪০ লক্ষ শিক্ষার্থী সম্পন্ন করবে এবং বছরে কমপক্ষে ২ লক্ষ দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে অবদান রাখবে।

ফিজিবিলিটি স্টাডি

স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি দক্ষতার চাহিদা নিরূপণের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় এবং UNICEF বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে “Feasibility Study to Assess the Future Readiness and Responsiveness of Bangladesh’s Higher Education System” শীর্ষক গবেষণামূলক জরিপের কাজ চলমান রয়েছে। উক্ত জরিপের প্রাপ্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে দক্ষতাভিত্তিক কর্মমুখী কোর্সসমূহ চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।

তৃতীয় ভাষা শিক্ষা

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি Mandarin, Japanese, Korean, Arabic, Italian, Spanish ও French ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে Multi Language Learning Institute প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং অধিভুক্ত কলেজগুলোতে Language Club গঠনের কাজ চলমান রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী কর্মীদের আরবি ভাষা ও সফট স্কিলস (Soft Skills) শেখানোর মাধ্যমে দেশের রেমিট্যান্স কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। কলেজের অধ্যক্ষদের অবিলম্বে নিজেদের সভাপতি করে ইংরেজি, বাংলা এবং আরবি বিভাগের শিক্ষকদের সমন্বয়ে ১০ সদস্য বিশিষ্ট ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৭ জুন অনুষ্ঠান শুরুর আগে। প্রাথমিক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে শিক্ষার্থীরা প্রধানত ম্যান্ডারিন, জাপানিজ এবং স্প্যানিশ ভাষা শিখতে অত্যন্ত আগ্রহী।

দক্ষতা উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ

১ম বর্ষ: বাধ্যতামূলক ICT, নৈতিক শিক্ষাসহ বাংলাদেশের ইতিহাস ও পরিচয়।

২য় বর্ষ: বাধ্যতামূলক Applied ICT Course, English

৩য় ও ৪র্থ বর্ষ: কর্মসংস্থানমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক বিশেষায়িত কোর্স, Communicative English

মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল স্ট্যাকেবল লার্নিং পাথওয়ে চালু হয়েছে।

৩য় ভাষা হিসেবে Mandarin/Japanese/Italian/Arabic/Spanish/Franch চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যুগোপযোগী ও কর্মমুখী শিক্ষা প্রবর্তনের লক্ষ্যে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্টের University of New Haven, City College of New York, যুক্তরাজ্যের University of Salford, Hope Education China, Oxford University Press, UNICEF Bangladesh, a2i, ACCA, NSDA -সহ প্রায় ১০০টি স্বনামধন্য দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত করেছে। পাশাপাশি দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে Industry-Academia Linkage জোরদার করা হচ্ছে।

শিক্ষানবিশ (Apprenticeship) কর্মসূচি

যুক্তরাজ্যের University of Salford-এর সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মানের Apprenticeship Programme চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিবছর ২৫,০০০-৫০,০০০ শিক্ষানবিশ তৈরীর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এই উদ্দ্যোগটি তার নিজস্ব রিসোর্স দিয়ে পরিচালিত করবে।

মাইক্রো-লার্নিং ও মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল

যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং a2i-এর সহায়তায় বর্তমান এবং ঝরে পড়া (ড্রপ আউট) শিক্ষার্থীদের জন্য ১০-১২ ক্রেডিটের মাইক্রো-লার্নিং ও মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল কোর্স চালু করা হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে তিন মাস মেয়াদী এই কোর্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কয়েকশো শিক্ষার্থীর কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার হার ৯৭.৫%। এই কোর্সগুলো এবং পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা (PGD) প্রোগ্রামগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ‘ইনস্টিটিউট অফ স্কিলস বেইজড এডুকেশন’ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলমান।

ক্যারিয়ার সেন্টার ও কর্মসংস্থান

প্রতিটি কলেজে Career Center প্রতিষ্ঠা, Job Interview Support, Internship Facilitation এবং Freelancing Training প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি সংস্থার সহযোগিতায় ক্যাম্পাসভিত্তিক পাইলটিং এর মাধ্যমে চাকরি ও ইন্টার্নশিপ সেন্টার ইতোমধ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
ডিজিটাল অবকাঠামো

শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল আইডি প্রদান করা হচ্ছে

স্মার্ট ক্লাসরুম, কম্পিউটার ল্যাব ও অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে

ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হচ্ছে

প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে:

প্রায় ২,৫০০ কলেজের গভর্নিং বডি পুনর্গঠন করেছে।

জেলা ভিত্তিক কলেজ মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে।

৬টি নতুন আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপন করেছে

বিভাগীয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

সেশন জট কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ভর্তি পরীক্ষা চালু করেছে।

২০১১ সালে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত প্রায় ৯৮৮ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে চাকরিতে পূণর্বহাল করা হয়েছে।

সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন

নারী শিক্ষার প্রসার এবং কলেজগুলোতে নারীদের জন্য হয়রানিমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া

হয়েছে।

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত কলেজ।

জুলাই শহিদ পরিবার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ২৫টি কলেজের ২৬ জন শিক্ষার্থী শহীদ হয়েছেন। তাদের প্রত্যেক পরিবারকে মোট ৮ লক্ষ টাকা (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ লক্ষ এবং জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে ৫ লক্ষ টাকা) সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও, শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য চাকরিতে অগ্রাধিকার এবং পড়ালেখা সম্পূর্ণ ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যাশিত ফলাফল

১. ৪০ লক্ষ শিক্ষার্থীর মধ্যে ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষতা উন্নয়ন।

২. প্রতিবছর লক্ষাধিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি।

৩. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি।

৪. ফ্রিল্যান্সার, উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ সংস্কৃতির বিকাশ।

৫. শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী গ্র্যাজুয়েট উৎপাদন।

৬. রেমিট্যান্স আয় ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি।

৭. উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন প্রতিষ্ঠা।

নৈতিক ও মানসিক শিক্ষা এবং লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বছরে ৪০ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানসিক শিক্ষা প্রদানের কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়াও দেশব্যাপী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে এবং প্রান্তিক ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করেছে। তাদের লক্ষ্য হলো দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটিতে অন্তত একটি করে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষায়িত কলেজ প্রতিষ্ঠা করা এবং সঙ্গীত কলেজের সংখ্যা দুই-তিনটি থেকে বাড়িয়ে ৬৪টি জেলার সবগুলোতে সম্প্রসারিত করা। এই প্রচেষ্টাগুলো বৃহত্তর ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস” (Learning with Happiness) কাঠামোর অংশ, যা ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ লক্ষ শিক্ষার্থীকে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে যুক্ত করেছে, যাতে তারা জুলাই এবং আগস্টের ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারে এবং তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ ও দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে।

One Student One Tree কর্মসূচি

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের আলোকে One Student One Tree কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ লক্ষ শিক্ষার্থী বছরে ১টি করে গাছ রোপণ করলে বছরে ৪০ লক্ষ গাছ এবং আগামী ৫ বছরে ২ কোটি গাছ (যেমন: নিম ও ফলের গাছ) লাগানোর লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী কলেজ পর্যায়ে শুরু হয়েছে।
উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য ঋণ

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সহজ শর্তে শিক্ষা ঋণ (স্টুডেন্ট লোন) প্রদানের জন্য বড় ব্যাংকগুলোর সাথে আলোচনার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই ঋণের কোনো সুদ থাকবে না এবং শিক্ষার্থীরা চাকরি পাওয়ার পর অটোমেটিক প্রক্রিয়ায় এই ঋণ পরিশোধ শুরু করবে।

ন্যাশনাল এক্সাম সেন্টার স্থাপন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সারা বছর ধরে ৪ থেকে ৫ লক্ষ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা চলমান থাকায় কলেজগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ রাখতে হয়, যার ফলে নিয়মিত ক্লাস ও পড়াশোনা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। এই সমস্যা সমাধান এবং সেশন জট কমানোর লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৩০০টি এবং পর্যায়ক্রমে দেশের ৫০০টি উপজেলায় স্বতন্ত্র ‘ন্যাশনাল এক্সাম সেন্টার’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দুটি দাতা সংস্থা এই প্রকল্পে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

উপসংহার

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের আলোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই রুপান্তরমূলক উদ্যোগ বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে একটি নতুন যুগে প্রবেশ করাবে। দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বৃহত্তম যুব জনগোষ্ঠীকে ভবিষ্যৎ উপযোগী মানবসম্পদ এবং স্মার্ট, দক্ষ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।