মাঙ্গলিক সমারোহ ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত ১১ দিনব্যাপী ২২তম আন্তর্জাতিক ঋষি কুম্ভমেলা।
মাঙ্গলিক আবহ, ধর্মীয় গাম্ভীর্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সফলভাবে সমাপ্ত হলো ১১ দিনব্যাপী ২২তম আন্তর্জাতিক ঋষি কুম্ভমেলা। সমাপ্তি দিবসে বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণের প্রত্যয়ে অনুষ্ঠিত হয় মহামাঙ্গলিক গীতা যজ্ঞ। এদিনের আধ্যাত্মিক পরিবেশে উপস্থিত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মাঝে সৃষ্টি হয় এক অনন্য অনুভূতি ও আবেগঘন মুহূর্ত, যা ক্ষণিকের জন্য হলেও ভুলিয়ে দেয় জীবনের দুঃখ-বেদনা ও ক্লান্তি।
জাতি-ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে কৃপালাভের আশায় মিলিত হন সকল স্তরের মানুষ। কোথাও ছিল না ধনী-দরিদ্র কিংবা জাতি-গোত্রের ভেদাভেদ। এই অপূর্ব মিলনমেলাই স্মরণ করিয়ে দেয় সনাতন ধর্মের প্রকৃত মানবিক ও সার্বজনীন আদর্শের কথা।
কুম্ভমেলা চলাকালে প্রতিদিনই নানা মাঙ্গলিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় ধর্মীয় আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মহাকুম্ভের গঙ্গাস্নান এবং মহাপ্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মযজ্ঞ।

সমগ্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান পুরোহিত করেন “শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী মহারাজ” (মোহন্ত মহারাজ, ঋষিধাম বাঁশখালী ও তুলসীধাম নন্দনকানন)। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ‘শ্রীগুরু সংঘ’ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল ‘উৎসব উদযাপন কমিটি’। এ আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ‘ঋষি অদ্বৈতানন্দ পরিষদ বাংলাদেশ’।
কুম্ভমেলার আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যথাক্রমে অ্যাডভোকেট অনুপম বিশ্বাস ও চন্দ্র শেখর মল্লিক। সার্বিক দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বাবু দেবাশীষ পালিত মহোদয়, চন্দন সিংহ মহোদয়সহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে নিরলসভাবে কাজ করেন স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ, আহ্বায়ক কমিটি এবং বিভিন্ন জেলা, থানা ও উপজেলা কমিটির সদস্যরা।
দীর্ঘ পরিকল্পনা ও শ্রমের পর ১১ দিনের এ মহাযজ্ঞ শেষে বিদায় মুহূর্তে ভক্তদের মনে জমে ওঠে মনের কষ্টের আবেশ। অশ্রুসিক্ত চোখ ও অফুরন্ত ভক্তিভাব নিয়ে নিজ নিজ গৃহে ফেরেন তাঁরা। এখন আবার শুরু হলো আগামী কুম্ভমেলার প্রতীক্ষা—ততদিনে হয়তো অনেকের জীবনের রঙ বদলে যাবে, বদলে যাবে উপলব্ধির দিগন্ত।
অনুষ্ঠান সফল ও সার্থকভাবে সম্পন্ন হওয়ায় মন্দির কর্তৃপক্ষ ও আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। পাশাপাশি অনিচ্ছাকৃত কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য সকলের কাছে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়।









