মহামারী রূপ নিয়েছে ক্রেজি ড্রাগ ইয়াবা। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে গ্রামের আনাচেকানাচে পর্যন্ত বিস্তার ঘটেছে নীরব এই ঘাতক এই ইয়াবা ট্যাবলেটের।
ইয়াবায় সম্পৃক্ততা মিলছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, তরুণ-তরুণী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীদের অনেকেই এখন ইয়াবায় আসক্ত। তবে এদের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রী তরুণ-তরুণীর সংখ্যাই বেশি। ইয়াবার ভয়াবহ থাবা আগামী প্রজন্মকে আজ ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এ অবস্থায় আগামীতে দেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইয়াবার ভয়াবহ আগ্রাসন নিয়ে সরকার যেমন উদ্বিগ্ন, চিন্তিত অভিভাবকমহলও। দেশের সর্বত্র মহামারীরূপে ছড়িয়ে পড়ছে সর্বনাশা মাদক ইয়াবা। ইয়াবাসেবীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। প্রতিদিন দেশের একপ্রান্ত টেকনাফ থেকে বিভিন্ন উপায় ও কৌশলে ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের আরেক প্রান্ত তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে, গ্রামগঞ্জে এখন ইয়াবার জমজমাট ব্যবসা প্রসারিত। মিয়ানমারের ৬০ টাকার এই ট্যাবলেট পাচার হয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিক্রি হচ্ছে মান ভেদে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকায়। এটি অনেক আগে থেকেই ব্যবসায় পরিণত হয়েছে বাংলাদেশে। আর এ কারণে পেশা পরিবর্তন করে মাদক ব্যবসায় ঝুঁকছে অনেক মানুষ। সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ, এমপি, রাজনৈতিক নেতা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী সিন্ডিকেট ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। এ কারণেই কোনোভাবেই এর আগ্রাসন রোধ করা যাচ্ছে না, ঠেকানো যাচ্ছে না ইয়াবার ব্যবসা। মাদক চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বলেছেন, এখন চিকিৎসা নিতে আসা মাদকসেবীদের অধিকাংশই ইয়াবা আসক্ত। মাদকসেবীরা ধোঁয়ায় উড়িয়ে দিচ্ছে বিপুল অংকের টাকা। ইয়াবার সর্বনাশা থাবায় লাখো পরিবারের সন্তানদের জীবন এখন বিপন্ন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধ্বংস করে মাদক ব্যবসার এই সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার কোটি টাকা।







