চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কদম রসুল এলাকায় অবৈধ ডাস্ট ব্যবসার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বছরের পর বছর ধরে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীরা কোনো ধরনের নিবন্ধন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে এক ভয়াবহ পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্য সংকট।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডাস্ট পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত রাস্তাটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক হলেও আজ পর্যন্ত কোনো প্রকার সংস্কার হয়নি। মাটির এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক ভারী ট্রাক চলাচল করে। ট্রাক চলাচলের সময় রাস্তা থেকে উড়ে আসা প্রচণ্ড ধুলাবালিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে আশপাশের বসতঘর, দোকানপাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন কার্য্য অচল হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই ধুলাবালির প্রভাবে শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, চর্মরোগ ও চোখের সমস্যাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারছেন না বলে জানান।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ ডাস্ট ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের শ্রম আইন বা নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ না করেই ইচ্ছামতো শ্রমিক নিয়োগ করছে। শিশু শ্রমের ঘটনাও প্রায়শই চোখে পড়ছে। কম মজুরিতে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের ব্যবহার করা হলেও এ বিষয়ে কোনো তদারকি নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীদের ভাষ্যমতে, প্রভাবশালীদের দাপটে তারা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে নানাভাবে ভয়ভীতি ও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ থাকলেও তা প্রকাশ করতে পারছেন না সাধারণ মানুষ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভূমি) ও সহকারী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,
“এলাকাবাসী যদি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট সরাসরি লিখিত কোনো অভিযোগ প্রদান করেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকাবাসীরা দ্রুত অবৈধ ডাস্ট ব্যবসা বন্ধ, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, সড়কটি পাকাকরণ এবং শিশু শ্রম বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সচেতন মহলের মতে, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কদম রসুল এলাকার জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।






