, ,

লামা বনবিভাগের বমু-রিজার্ভের আমানত রক্ষক যখন হয়ে যায় নিজেই ভক্ষক

নিউজটি শেয়ার করুন

(প্রথম পর্ব)

বান্দরবানের লামায় বনবিভাগের নিরপত্তা বেষ্টনিতে কাঠ পাচার করে কাঠ চোরা কারবারি অসাধু ব্যবসায়ীরা। সংরক্ষিত রিজার্ভ বনাঞ্চলের কাঠ আজ বিলুপ্তির পথে। লামা বনবিভাগের সদর রেঞ্জের আওতাধীন বমু রিজার্ভ ফরেস্ট’ বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়। বমু ফরেস্ট রিজার্ভ ২৫ এপ্রিল ১৯৩১ সালে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের তত্ত্বাবধানে বমু সংরক্ষিত বনাঞ্চল সৃষ্টি হয়।
২০০৫ সালে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগ, বমু রিজার্ভের ভৌগোলিক দুরত্বের কারনে লামা বনবিভাগকে হস্তান্তর করা হয়। সংরক্ষিত ও রক্ষিত মিলে এই রিজার্ভের মোট আয়তনের বনাঞ্চলের ভিতরে এখন দেখা মিলে হাজার হাজার গাছের মোতাসমুহ।
বিশেষ করে পঞ্চাশর্ধো সেগুন ও গর্জন প্রতিনিয়ত এই রিজার্ভ অঞ্চল থেকে চুরি হয়ে পাচার হয় দেশের বিভিন্ন যায়গায়।

সরেজমিনে বমু রিজার্ভ অঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়। নতুন করে কাটা কিছু গাছের মোতাতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ছাঁই করে, মোতার অস্তিত্ব মুছার চেষ্টা করা হয়েছে।
যতদূর রিজার্ভ ফরেস্টের ভিতরে যাওয়া হয় ততই কাটা গাছের মোতার দেখা মিলে বমু-ছড়ুইবিল রিজার্ভের মধ্যে।

বমু ছড়ুইবিল রিজার্ভের পার্শ্ববতী গ্রামের (নাম জানাতে অনিচ্ছুক) একজন জানিয়েছেন। রিজার্ভের থেকে যত গাছ চুরি হয় তা বেশিরভাগই বমু-বিট কর্মকর্তা আলতাফ ও লামা সদর রেঞ্জার আতা এলাহী সবই জানেন। তাদের ইশারা ছাড়া এই বমু রিজার্ভ থেকে একটা গাছের পাতা নড়া সম্ভব না বলে জানিয়েছেন। বমু রিজার্ভের (ছড়ুইবিল)(তেরিচ্ছা ঘোনা)(ছোট বমু লেমুর ঝিরি) হাফেজিয়া পাড়া অইদ্যা ঘোনা।বিশেষ করে পুকুরিয়াখোলা খোলা রিজার্ভ এলাকাতে রিজার্ভ খেকোরা বমু বিট কর্মকর্তা(হেডকোয়ার্টার স্পেশাল) আলাতাফ কে নিয়মিত মাশুয়ারা দিয়ে এ সমস্ত সংরক্ষিত রিজার্ভ গাছ শুন্য করতে মেতে উঠেছে বলে জানা গেছে।

দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার প্রতিনিধি সরেজমিনে গিয়ে অনুসন্ধান করেন। বমু রিজার্ভের নিয়মিত কাঠ পাচারের বিষটি। বন সংরক্ষক চট্টগ্রাম অঞ্চল সিএফ ড. রেজাউল করিম মোল্যা ও প্রধান বনসংরক্ষক মোঃ আমীর হোসেন চৌধুরী কে এ বিষয়ে প্রমানসহ অভিযোগ জানান।
উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৪/০৫/২৫ ইংরেজি তারিখে চট্টগ্রাম থেকে বন-বিভাগের তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম সকাল ১২টা দিকে লামা বন-বিভাগে আসেন। তদন্ত টিম আসার আগেরদিন ২৩/০৫/২৫ ইং রাত ১০ টার দিকে, দৈনিক দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার প্রতিবেদক কে মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়ে লামা সদর রেঞ্জের আতা এলাহী জানান। আপনাকে অনুরোধ করা যাচ্ছে আগামীকাল সকালে তদন্ত টিমের সাথে থেকে তদন্ত কাজে সহোগিতা করার জন্য। প্রতিবেদক লামা সদর রেঞ্জার আতা এলাহীকে জানান আমি ইতিমধ্যে চকরিয়া টু ঢাকার গাড়ি তে আছি। বনবিভাগ থেকে একদিন আগে আমাকে নোটিস করা দরকার ছিল বলে জানান সদর রেঞ্জার আতা এলাহী কে।

প্রতিবেদক লামা বন বিভাগের হেডকোয়ার্টার রেঞ্জার আতা এলাহীকে জানান,আমি যেহেতু উপস্তিত থাকতে পারছিনা।আমার বাইক ড্রাইভার আসহাব উদ্দিন বমু রিজার্ভের গাছ চুরি হওয়া চিহ্নিত স্পট গুলো তদন্ত টিমকে দেখাতে সহযোগিতা করতে পারবে।

তার নিরাপত্তার বিষয় টা আপনাদের নিতে হবে বলে আতা এলাহী কে জানান। লামা বন-বিভাগের হেডকোয়ার্টার রেঞ্জার আতা এলাহী জানান কোন সমস্যা নেই তার নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের।

আসহাব উদ্দিন জানান বমু রিজার্ভের গাছের মোতা সনাক্তের চিহ্নিত স্পটগুলো দেখিয়ে দিতে নন্দীরবিল রিজার্ভ পাড়া চিতা খোলা( শ্মশান) যায়। রিজার্ভের ঐ স্থানে অসংখ্য সেগুনের মোতা আমি তাদের দেখিয়েছি এবং স্যার আরেকটু বিতরে গেলে আরো ৩শ’ থেকে ৪শ’মোতা দেখা মিলবে। তদন্ত টিমের সাথে লামা বন-বিভাগ থেকে আসা হেডকোয়ার্টার রেঞ্জার আতা এলহী ও বমু বিট কর্মকর্তা (স্পেশাল হেডকোয়ার্টার)আলতাফ বলেন,এসব দেখে লাভ নেই।তদন্ত টিমকে ছবিতে যে ৩টি মোতা আছে এগুলো দেখিয়ে দাও। আমি বমু রিজার্ভের (রিজার্ভ পাড়া) স্থান থেকে তদন্ত টিমকে সাথে নিয়ে বাহিরে চলে আসি।

ছবিতে যে মোতা আছে তা দেখাতে মোজাহারের খামার নামকস্থানে নিয়ে যাই। তদন্ত টিমের হাতে থাকা মোতার ছবি যে মোতা তা দেখিয়ে দিলাম তারা তা ভিডিও করে নিল।
আসহাব উদ্দিন বলেন, সাংবাদিক (প্রতিবেদক) রিজার্ভের যে স্থানগুলোতে সবচেয়ে বেশি সেগুন বেলজিয়াম কাটা হয়েছে। সেইখানে নিয়ে যেতে বলেছিল।তবে বন-বিভাগের তদন্ত কমিটির টিম ও হেডকোয়ার্টার রেঞ্জার আতা এলাহী, বমু বিট কড়মকর্তা (হেডকোয়ার্টার স্পেশালের) আলতাফ ঐ স্থানে যায়নি।

তাদেরকে দেখে আমার মনে হয়নি আসলেই তারা তদন্ত করতে আসছে।তারা নিজেরা নিজেদের সাথে হাসি তামশাতে মসগুল ছিল। আমাকে তড়িঘড়ি করে রিজার্ভ থেকে বাহিরে নিয়ে চলে আসে। লামা বন-বিভাগ ও অসাধু রিজার্ভ খেকোদের পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী। রাস্তায় দেখতে পেলাম নারী-পুরুষ ও রিজার্ভ খেকোর দল,আমাকে মারার জন্য অপেক্ষা করছে।

রিজার্ভ খেকো কাঠ ব্যবসায়ী জোত মালিক সমিতির সেক্রেটারি হারুন,খোকন,লম্বা মুছা,লামা জোতমালিক সমিতির সভাপতি সেলিম, বাবুল(প্রকাশ ফার্নিচার বাবুল), শামশু, সমস্ত রিজার্ভ খেকো কাঠ ব্যবসায়ীরা আমার উপর হামলার চেষ্টা চালায়। রেঞ্জার আতা এলাহী আমাকে তাদের ফরেস্ট জীপে উঠিয়ে দেয়। আমার মোটর বাইক টা নিজে চালিয়ে বন বিভাগের দিখে দ্রুত চলে আসে।

আতা এলাহী চাইলে আমাকে নিরাপদে আমার বাড়ির রাস্তার দিখে এগিয়ে দিতে পারতো। অথচ তা না করে আমাকে স্বকৌশলে লামা বন-বিভাগের অফিসে নিয়ে আসে। আমাকে লামা বন-বিভাগের সামনের অফিস রুমে বসিয়ে রাখে। সমস্ত রিজার্ভ খেকো ব্যবসায়ীরা ও সন্ত্রাসী লোকজন আমাকে বনবিভাগের অফিস রুমে ঢোকে বেশ কয়েকবার মারার চেষ্টা করে।এবং কিছুক্ষন পরপর আমাকে হুমকি দিচ্ছে অফিস রুমে ঢোকে তোকে আজ শেষ করে দিব। আমার আশ্চর্য লেগেছে এত সিকিউরিটি যুক্ত একটি বন বিভাগের অফিসে আমি নিরাপদ থাকতে পারছিনা।

আমি তখন ভিষণ ভয়ের মধ্যে ছিলাম। বমু বিট কর্মকর্তা স্পেশালের আলতাফ এসে আমার হ্যালমেট ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। হ্যালমেটে নাকি গোপন ক্যামেরা আছে। হ্যালমেট টা ভেঙে দেখেছে আলতাফ, গোপন ক্যামেরা কোথাও পায়নি।আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে আলতাফ ও আতা এলাহী দুজন মিলে, আমার মোবাইলে তোলা বমু রিজার্ভের সব ছবিও আমার পারিবারিক ছবিসহ ডিলেট করে। এক ঘন্টা পর আমার মোবাইল ফোন ফেরত দেন।
লামার এক ব্যাক্তি (নাম জানাতে অনিচ্ছুক) জানিয়েছেন। লামা জোত-মালিক সমিতির সভাপতি সেলিম ও হারুন লামা বন বিভাগের আতা এলাহী এবং আলতাফ পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে এম ন্যাক্ষার জনক ঘটনা ঘটিয়েছে। শুধু মাত্র তদন্ত বানচালের উদ্দেশ্যে।

তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিমের প্রধান উপ-বন সংরক্ষক এম এ হাসানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করি। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় তদন্তের বিষয়ে, ওনি প্রতিবেদক কে ধমক দিয়ে বলেন। আপনিই সব নষ্টের মূল, আমি জানতে চাইলাম কিভাবে আমাকে একটু ব্যাখ্যা করে বলেন। এম এ হাসান আমাকে বলেন আপনি ফেইজবুকে ষ্ট্যাটাস কেন দিয়েছেন। আপনার ড্রাইভারের উপর হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে।আমি যখন তার কাছে জানতে চাইলাম আমার ড্রাইভার কে বন বিভাগের অফিস রুমে নির্জাতন করেছে আলতাফ ও আতা এলাহী। এসব আপনি দেখেন নি। এত কথা বলতে পারবনা তদন্ত চলমান রয়েছে বলে ফোন রেখে দেন। পর পর পাঁচ বার কল দিয়েছি ওনি আর ফোন রিসিভ করেন নি।

জানা গেছে তদন্ত টিমের প্রধান উপ-বন সংরক্ষক এম এ হাসান এবং লামা বন বিভাগের উপ-বন সংরক্ষক (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহামান একে অপরের ব্যাজমেট।

লামা বনবিভাগের ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান, হেডকোয়ার্টার রেঞ্জার আতা এলাহী,বমু বিট কর্মকর্তা(হেডকোয়ার্টার স্পেশাল) আলতাফ কে প্রতিবেদনের বক্তব্যের জন্য মুঠোফোন অসংখ্য কল দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেন নি।

২৪/০৫/২৫ তারিখ তদন্ত টিম নাটকীয় ভাবে তদন্ত করে যাওয়ার পরের দিন। ২৫/০৫/২৫ ইং বমু রিজার্ভের তদন্ত আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্য। ডিএফও এবং হেডকোয়ার্টার রেঞ্জার আতা এলাহী নামে মাত্র টিপি দিয়ে চিহ্নিত বমু রিজার্ভের কাঠ পাচারের বৈধ লাইসেন্স করে দেন।
প্রধান বনসংরক্ষক মহোদয় ও সিএফ রেজাউল করিম মোল্য মহোদয় কে বিসয়টি প্রমান সহকারে দেখিয়েছি বমু রিজার্ভের আলামত নষ্ট কিবাবে করে।
তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেন নি। লামা বন বিভাগের ডিএফও ও হেডকোয়ার্টার রেঞ্জার আতা এলাহীকে ও অবগত করেছি।

 

(লামা বন বিভাগের ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান ও হেডকোয়ার্টার রেঞ্জার আতা এলাহীর দুর্নীতির ফিরিস্তি র আমল নামা…….)

 

সরেজমিনে গিয়ে অনুসন্ধান করে জানা যায়। লামা বন বিভাগের হেডকোয়ার্টার রেঞ্জার আতা এলাহী ও ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের দুর্নীতির আরেক লম্বা ফিরিস্তি। (নাম জানাতে অনিচ্ছুক)সাবেক এক বন-কর্মকর্তা জানান। লামা বনবিভাগে বিগত দুই বছরের মধ্যে যতগুলো জোত পারমিট এফএল হয়েছে। প্রতিটি জোতে ২০হাজার সিএপটি থেকে ২২ হাজার সেফটি কাঠের ওয়ার্ককাটার দিয়েছে লামা বন বিভাগ।

সরেজমিনে জোতের চিহ্নিত স্থানে গেলে দেখা যাবে,চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার সেফটি কাঠের বেশি দৃশ্যমান থাকবেনা। চার হাজার সেফটি কাঠের বাহিরে অতিরিক্ত ১৬ হাজার সেফটি কাঠের প্রতি সেফটি থেকে দুইশ টাকা করে নেন লামা বন বিভাগ। হেডকোয়ার্টার রেঞ্জার আতা এলাহী ও ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান এই টাকা নেন। এছাড়া যে কাঠগুলো জোত পারমিট আছে। তার জন্য ও প্রতি সেফটি ১শ’ টাকা করে নেন হেডকোয়ার্টার রেঞ্জার ও ডিএফও। বমু রিজার্ভ থেকে যে সকল সেগুন কাঠ জোতের বৈধ ডিপুতে ঢোকে তার জন্য প্রতি সেফটি ৩শ’ টাকা করে নেন বলে জানিয়েছেন। সেগুন কাঠের প্রতি সেফটি ১শ’,২শ’,৩শ’ টাকা নেওয়া হয় যখন ব্যবসায়ীরা বন বিভাগে (টিপি অর্থাৎ ট্রান্সপোর্ট পারমিট) নিতে যায়। প্রতি গাড়িতে ৩৬০ সেফটি’র মতো কাঠ লোডিং হয়।

ডিপো থেকে ট্রাকে কাঠ লোডিং করার পরে প্রতি গাড়ি থেকে, ডিএফও এবং হেডকোয়ার্টার রেঞ্জার নেন ৩হাজার টাকা। বমু বিট কর্মকর্তা(হেডকোয়ার্টার স্পেশাল) আলতাফ ১২শ টাকা করে নেন প্রতি গাড়ি থেকে। গাড়ি লোডিং করার সময় চেকিং এ বন বিভাগের মুন্সি ও এফডি সদস্য থাকে ৪ জন। তাদের প্রতি গাড়ি থেকে ২ হাজার টাকা দিতে হয়। লামা থেকে টিপির মাধ্যমে কাঠ বেঝাই ট্রাক চট্টগ্রাম বা ঢাকা যাওয়ার পথে। বন বিভাগের প্রতিটি চেকিং গেইটে টাকা দিতে হয় বলে জানা গেছে।

লামা বন বিভাগের হেডকোয়ার্টার রেঞ্জার আতা এলাহীর জুড়ি সেকশন এরিয়ার , ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কবিরের দোকান নামক স্থানে। ইউনিয়ন পরিষদের ইজারা গেইটে দায়িত্বে থাকা নজরুল। প্রতিটি বনের কাঠ বোঝাই পিকআপ ও ডাম্পার থেকে পঞ্চাশ টাকা করে আদায় করেন আতা এলাহীর জন্য।

লামা বন বিভাগের (বমু বিট,লামা বন চৌকি স্টেশন, ও হেডকোয়ার্টার স্পেশাল তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আলতাফ কে। জানা গেছে লামা বন চৌকি স্টেশন সংলগ্ন মাতামুহুরি নদী পথে। জোত পরমিট ছাড়া বাঁশের চালি ও গর্জন গোদা গুডগুটিয়া সহ বিভিন্ন কাঠ পাচারকারীর থেকে নিয়মিত টাকা নেন।বাঁশের প্রতি চালি থেকে ৮শ টাকা নেন বমু বিট কর্মকর্কতা আলতাফ এর হয়ে এসব টাকা আদায় করেন, বন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত মালী শামশুল আলম (প্রকাশ ফরেস্টার শামশুল)।

অনুসন্ধান করে জানা যায়,জোত পারমিটের গাড়ি লামা থেকে ঢাকা যাওয়া পর্যন্ত। কাঠ ব্যবসায়ীদের আলাদা ভাবে খরচ হয় ৬০হাজার টাকা। লামা লাইনঝিরেতে বন বিভাগের ওয়াচার জমির উদ্দিন (দুদু)কে টিপির গাড়ি জন্য ২২শ’ টাকা দিতে হয়। এই টাকা থেকে বমুবিট কর্মকর্তা (স্পেশাল হেডকোয়ার্টার) আলতাফের জন্য ৬শ’ টাকা আলাদা ভাবে নেন। অবশিষ্ট ১৬শ’ টাকা (লামা থানার ওসি) সহ বেশকয়েক জন ভাগাভাগি করে নেন বলে জানা গেছে।

পরবর্তী ধাপ লামা বন বিভাগের ইয়াংছা বিটের গেইট, বিটের গেইট টি হেডকোয়ার্টার রেঞ্জার আতা এলাহীর নিয়ন্ত্রণাধীন। গেইটে দায়িত্বে থাকা বারেক প্রতি টিপির গাড়ি থেকে ৪২শ’ টাকা করে নেন।২শ’ টাকা নেন বারেক নিজেই, ৪ হাজার টাকা আতা এলাহীর জন্য আদায় করে। চকরিয়া ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের মানিকপুর বিটের বিট কর্মকর্তা আলাউদ্দিন নেন প্রতি গাড়ি থেকে ২৫শ’টাকা।চকরিয়া ফাঁসিয়াখালীর রেঞ্জের কাকারা বিট কর্মকর্তা নেন প্রতি গাড়ি থেকে ২২শ’ টাকা।চকরিয়া ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের নলবিলা চেক ষ্টেশন কর্মকর্তা প্রতি গাড়ি ২৫শ’ টাকা নেন। পদুয়া রেঞ্জের মহাসড়ক সংলগ্ন গেইটে প্রতি গাড়ি থেকে ৭ হাজার টাকা নেন বলে জানা গেছে। এভাবেই ঢাকা পৌছানো পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশ থেকে শুরু করে অন্যান্য বন বিভাগের গেইটে টাকা দিয়ে যেতে হয়।